অনলাইন ডেস্ক:

দেশের প্রথম মেট্রোরেল (উত্তরা থেকে আগারগাঁও) উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) সবুজ পতাকা উড়িয়ে এবং ফিতা কেটে মেট্রোরেল লাইন-৬ এর উদ্বোধন করেন তিনি। প্রথম টিকিট কেটে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে টিকিট কেটে মেট্রোরেলে উঠেন, নামেন আগারগাঁও স্টেশনে। এ সময় তার বোন শেখ রেহানা, এমপি-মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, আমলা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সহযাত্রী হন। প্রথম মেট্রোরেলে প্রধানমন্ত্রীর সহযাত্রী হওয়ায় খুশি তারা। একইসঙ্গে স্বপ্নপূরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান তারা।

মেট্রোরেল চালুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আরেক ধাপ এগিয়ে গেলো মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, দেশের প্রথম মেট্রোরেলের উদ্বোধনের দিন তাতে চড়তে পেরে খুবই ভালো লাগছে। মেট্রোরেল ঢাকাবাসীর যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভালো কার্যকর হবে।

নগর গণপরিবহনের ক্ষেত্রে মেট্রোরেল নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি ছিল দিন বদল করবেন। এই মেট্রোরেলের মাধ্যমেই তিনি তার কথা রেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও শেখ রেহানা (ছবি: ফোকাস বাংলা)প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও শেখ রেহানা (ছবি: ফোকাস বাংলা)

কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমি খুবই আনন্দিত পদ্মা সেতুর পরে আমাদের এটি একটি বড় অর্জন। এই মেট্রোরেল আমাদের মর্যাদা আরও বাড়াবে, মানুষের কষ্ট লাঘব করবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, বিজ্ঞান-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে এগিয়ে গেছে, তার একটা প্রমাণ মেট্রোরেল। এটি সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায়ও একটি মাইলফলক। অনেকবার বিদেশে দেখেছি, স্বপ্ন ছিল দেশে কবে হবে। শেখ হাসিনার কল্যাণে আমরা পেলাম।

মেট্রোরেলে চড়ে খুশি মন্ত্রী-এমপি-আমলারা, জানালেন কৃতজ্ঞতা

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, আমাদের স্বপ্ন সার্থক হয়েছে। বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছিলেন। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশকে উন্নতি এবং সামনের দিকে নিয়ে যাবেন। তার কন্যা শেখ হাসিনা তা বাস্তবায়ন এবং সফল করায় আমরা আনন্দিত।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, আমার কাছে মনে হলো—মাত্রই উঠলাম আবার মাত্রই নামলাম। যেখানে আসতে দুই ঘণ্টা সময় লাগতো, সেখানে মনে হলো উঠলাম আর নামলাম। এটা আসলে যে কত বড় উপকার হলো, কোনও ভাষায়ই সেই অভিব্যক্তি প্রকাশ করা যাবে না।

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ঢাকাবাসীর যাতায়াতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে মেট্রোরেল। সাধারণ মানুষ আধুনিক এই রেলের দ্বারা উপকৃত হবে। এটি সরকারের অন্যতম একটি বড় অর্জন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, এ অনুভূতি প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা সবাই আনন্দিত। বিশেষ করে ঢাকাবাসী। এটা আবেগের সময়, অর্জনের সময়। বিশেষ করে এটি আমরা বিজয়ের মাসে পেয়েছি। এতে আনন্দ আরও বেড়ে গেলো।

মেট্রোরেল চালুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ম্যাজিক্যাল যুগে প্রবেশ করেছে বলে মন্তব্য করে যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত, উদ্বেলিত।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে সত্যিকারভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমরা আজকে ম্যাজিক্যাল যুগে প্রবেশ করলাম।’

কাজী নাবিল আহমেদ (মাঝে)কাজী নাবিল আহমেদ (মাঝে)

কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘এই বিশেষ দিনে স্মরণ করছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যাকে না পেলে আমরা স্বাধীন জাতি হতাম না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, তিনি সত্যিকারভাবে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের, প্রগতিশীল দেশে পরিণত করেছেন। আমাদের বিশ্বাস, এটি আরও প্রসারিত হবে, আরও উন্নত হবে। যানজট কমে আসবে।’

ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা বলেন, আমরা সবাই খুশি। প্রধানমন্ত্রীর জন্য আমার এলাকার জনগণ সবাই দোয়া করছে। নির্মাণের সময় আমাদের মিরপুরবাসীর যে কষ্ট ছিল আজকের ট্রেনে ওঠার পর সেই কষ্ট দূর হয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) দেশের প্রথম মেট্রোরেল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীর উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে বেলা ১টা ৫৩ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী মেট্রোরেল যাত্রা শুরু করে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার বোন এবং জাতির জনকের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। তারা উভয়েই টিকিট কেটে মেট্রোরেলে ওঠেন। বিরতিহীন যাত্রা করে ১০ মিনিট ১০ সেকেন্ডের মধ্যে আগারগাঁও স্টেশনে এসে থামে ট্রেন।

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ