অনলাইন ডেস্ক:

দেশে নিত্যপণ্যের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভারতের কাছ থেকে প্রতিবছর ৬৫ লাখ টন চাল-গমসহ নির্ধারিত পরিমাণ পেঁয়াজ, ডাল, চিনি, রসুন ও আদা আমদানির জন্য কোটার নিশ্চয়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে মঙ্গলবার-ই (২৭ ডিসেম্বর) ঘোষণা দেবে ভারত।

দেশে নিত্যপণ্যের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভারতের কাছ থেকে প্রতিবছর ৬৫ লাখ টন চাল-গমসহ নির্ধারিত পরিমাণ পেঁয়াজ, ডাল, চিনি, রসুন ও আদা আমদানির জন্য কোটার নিশ্চয়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে মঙ্গলবার-ই (২৭ ডিসেম্বর) ঘোষণা দেবে ভারত।

গত সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পর গত সপ্তাহে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির নয়াদিল্লি সফরে এবিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশ ভারত থেকে প্রতিবছর ন্যূনতম কী পরিমাণ নিত্যপণ্য আমদানি করতে চায় তার একটি প্রস্তাব পাঠায়।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশে রপ্তানির জন্য প্রতিবছর ৪৫ লাখ টন গম, ২০ লাখ টন চাল, ৭ লাখ টন পেঁয়াজ, ১৫ লাখ টন চিনি, ১.২৫ লাখ টন আদা, ৩০ হাজার টন মসুর ডাল ও ১০ হাজার টন রসুনের কোটা চেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে কথা বলতে সোমবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে ভারত যাওয়া অতিরিক্ত সচিব নূর মো. মাহবুবুল হক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার প্রেস ব্রিফিং করবেন। তার আগে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।

প্রতিবছর মার্চে জাতীয় বাজেট ঘোষণার সময় নেপাল ও ভুটানে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য রপ্তানির কোটা ঘোষণা করে ভারত। আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘোষণাকালে বাংলাদেশের জন্যও একইভাবে কোটা ঘোষণা করতে পারে বলে প্রত্যাশা করছে ঢাকা।

এরফলে ভারতের স্থানীয় বাজারে কোনো সংকট দেখা দিলেও, নির্ধারিত কোটার ভিত্তিতে আমদানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা করে এসব পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের জন্য কোটা নির্ধারণে সম্মত হয়েছে ভারত।

বাণিজ্যমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশি পণ্যের উপর বিদ্যমান অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার করা, কম্প্রেহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সেপা) স্বাক্ষরের জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা, সিইও’স ফোরাম গঠন, সীমান্ত ঘেঁষা অবকাঠামো উন্নয়নে বিদ্যমান বাধা দূর করাসহ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

চাল, গমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ ভারতের উপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। গত কয়েক বছর অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ বাড়ানো ও উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে ভারত বিভিন্ন সময় পেঁয়াজ, চাল, গম, চিনিসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে মুহূর্তের মধ্যে তা বাংলাদেশের বাজারে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে যেকোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের রপ্তানি বন্ধের আগে বাংলাদেশকে তা জানাতে ভারত সরকারকে অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তারপরেও ভারত বিভিন্ন সময় হঠাৎ করে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধকালীন সময়ে ভারত গম ও চিনি রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশে আটা ও চিনির দাম অনেক বেড়ে যায়। প্রতিবেশী হিসেবে অন্তত আগে থেকে এলসি খোলা গম রপ্তানির আশ্বাস দিয়েছিল দেশটি। কিন্তু, শেষপর্যন্ত ভারত গম রপ্তানি করেনি।

গত সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনার দেশটির বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে সাক্ষাত করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রপ্তানিতে ভারতীয় নিষেধাজ্ঞায় হতাশার কথা জানান। তখন ভারতের বাণিজ্য সচিব বাংলাদেশে রপ্তানির জন্য নেপাল ও ভুটানের মতো কোটা নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে এ বিষয়ে আলোচনার পর বাংলাদেশ প্রতিবছর ভারত থেকে কী পরিমাণ ভোগ্যপণ্য আমদানি করতে চায়, তার প্রস্তাব পাঠিয়েছে ঢাকা। এ বিষয়ে ভারতের সম্মতি আদায়ে আলোচনা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা ফিরেছেন।

কোটা সুবিধাকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা

ভারতের রপ্তানি কোটাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন- উর- রশিদ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ‘ভারত পেঁয়াজ ও গম রপ্তানি বন্ধ করলে, দেশের বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়। প্রতিবছর আমদানির জন্য একটি নির্ধারিত কোটা থাকলে, তখন আরও কোনো সংকট হবে না, খাদ্য নিরাপত্তাও থাকবে। পাশাপাশি আগেভাগে আমদানিরও উদ্যোগ নেওয়া যাবে’।

দেশে ভোজ্যতেল ব্যবসার বৃহৎ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী টিকে গ্রুপের পরিচালক (ফাইন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন) মো. শাফিউল আতহার তাসলিম বলেন, ‘আমাদের আমদানির ২৫-৩০ শতাংশই হয় ভারত থেকে। এই নিশ্চয়তা থাকলে, আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হবে। এতে সংকটকালেও তা থেকে মুক্ত থাকতে পারব এবং সরবরাহ চক্র ঠিক রাখতে পারব। অর্থাৎ, এই চুক্তি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে’।

দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপ অভ ইন্ডাস্ট্রিজের সিনিয়র এজিএম তসলিম শাহরিয়ার-ও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক বলে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে সহায়ক হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ ট্রেড নেগোসিয়েটিং কমিটি (টিএনসি) গঠন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতকে জানিয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে বাণিজ্যমন্ত্রীর অনুরোধে সম্মতি দিয়েছে ভারত।

২০২০-২১ অর্থবছরে ভারত থেকে ১১.৫৭ লাখ টন গম আমদানি করেছে বাংলাদেশ, এসময় ভারত থেকে চাল আমদানি করা হয় (বাসমতি ছাড়া) ১৬.২৩ লাখ টন।

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির বার্ষিক পরিমাণ ৭-৮ লাখ টন। ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬.৫৯ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করে।

 

সুত্র:-টিবিএস

পোস্টটি শেয়ার করুনঃ